২৪ জানুয়ারি ২০১১ - ২০:৩০

পাকিস্তানের হাজার হাজার লোক মার্কিন বিরোধী এক গণবিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে মার্কিন ড্রোন হতে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রে বেসামরিক লোক হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট: মার্কিন ড্রোন (পাইলট বিহীন বিমান) হতে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ৭ জন বেসামরিক লোক নিহত হওয়ার পর গত রবিবার (২৩শে জানুয়ারী) জনগণ এ গণবিক্ষোভে অংশ নেয়।

পাকিস্তানের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামি পাকিস্তানের সক্রিয়া ব্যক্তিত্বরা পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত পেশোয়ার শহরে আয়োজিত এ গণবিক্ষোভের উদ্যোগ নেন।

বিক্ষোভকারীরা এ শহরের প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেয় এবং প্রায় ৬ ঘন্টা যাবত এ প্রদেশের সংসদের সম্মুখে প্রতীকী অনশন পালন করে।

এদিকে পাকিস্তানের মীরানশাহ অঞ্চলের জনগণও গত ২১শে জানুয়ারী বিক্ষোভ করেছে।

বিগত কয়েক বছর ধরে পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানসহ অন্যান্য উপজাতী অধ্যুষিত এলাকাসমূহে মার্কিন সৈন্যরা অনবরত ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে ২০১০ সালে দ্বিগুণ পরিমাণে ড্রোন হামলা চালিয়েছে মার্কিনীরা। এ সকল হামলায় ১২০০ বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে।

যদিও ওয়াশিংটন দাবী করেছে যে, তারা আধাসামরিকদেরকে লক্ষ করে এ সকল হামলা চালিয়ে থাকে, কিন্তু স্থানীয় অধিবাসীরা মনে করেন মার্কিনীদের এ অবৈধ হামলায় মূলতঃ বেসামরিক লোক নিহত হয়।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের যুগ হতেই ড্রোন হামলা শুর হয় এবং ২০০৯ সালে বারাকা ওবামা ক্ষমতা গ্রহণের পর এ হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন ড্রোন হামলা ও ন্যাটো বাহিনী’র হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ। মার্কিনীদের এ ধরণের হামলাকে অবৈধ হিসেবে আখ্যায়িত করে একে এদেশের সরকার বিরোধী পদক্ষেপ ও ধ্বংসাত্মক বলে আখ্যায়িত করেছেন তারা।

এ সকল হামলায় নিহত বেসামরিক লোকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাকিস্তানে মার্কিন বিরোধী মনোভাব লক্ষ্যণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পেছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত।#